সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য এগিয়ে এল আড়িয়াদহের টেকনো ইন্ডিয়া পাবলিক স্কুল। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘বারান্দায় রোদ্দুর’ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। এই উদ্যোগ সিবিএসই–র ‘সেবা’ কর্মসূচীর অন্তর্ভূক্ত। এই কর্মসূচীর লক্ষ্য হল কর্মশিক্ষা ও কাজের মাধ্যমে সামাজিক ক্ষমতায়ন।
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীর কল্পনাপ্রসূত এই কর্মসূচী। এই মহৎ কর্মসূচীতে লালন–পালনমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হয়। যেখানে স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা পুলিশ অফিসাররা প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত হাওড়ার মহিলা পুলিশ পিছিয়ে শিশুদের শিক্ষাদার করেন। চার দেওয়ালের বাইরে অনন্য শ্রেণীকক্ষে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করা হয়।
আড়িয়াদহের টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে এই মহৎ কাজে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিজেদের স্কুল ব্যাগ দান করেছে। তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র তুলে দিয়েছে। স্কুলের ছাত্র পরিষদ শিশুদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং তাদের পক্ষ থেকে পরিবেশ বান্ধব কাগজের ব্যাগে বিভিন্ন জিনিসপত্র তুলে দেয়। এইরকম শিক্ষার পরিবেশ ও উপহার পেয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুরা দারুণ খুশি।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের ফুটবল জীবনে দেশের জার্সি গায়ে প্রথম লালকার্ড, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
আরও পড়ুনঃ লুধিয়ানায় হামলার ছক সন্ত্রাসীদের, পরিকল্পনা ভেস্তে দিল পাঞ্জাব পুলিশ, উদ্ধার গ্রেনেড, গ্রেফতার ১০
কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে আড়িয়াদহ টেকনো পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল সিং এবং রাহুল গুপ্তা হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীর সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহন করে। প্রবীন ত্রিপাঠী তাঁর পেশাগত যাত্রা এবং সমাজকল্যাণের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এই কর্মসূচী পরিচালনা করেন হাওড়া মহিলা পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ কাকলি ঘোষ কুণ্ডু। আড়িয়াদহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জীববিজ্ঞানের শিক্ষক দেবাঞ্জন শীল, বাংলার শিক্ষক গৌতম বিশ্বাস এবং স্কুলে দুই আধিকারিক কুনাল দাম ও অর্পিতা রায়।
সিবিএসই ‘সেবা’ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাকে সংযুক্ত করে, শিক্ষার্থীদের সমাজে অর্থপূর্ণ অবদান রাখার জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।