একজন ডিফেন্ডার ফুটবলজীবনে কখনও লালকার্ড দেখেননি! এটা কেউ বিশ্বাস করবে? হ্যাঁ, অবিশ্বাস করার মতোই ব্যাপার। দীর্ঘ ফুটবলজীবনে কখনও লালকার্ড দেখেননি দেশের অন্যতম সেরা প্রাক্তন সাইডব্যাক অলোক মুখার্জি। রবিবার প্রকাশিত হত তাঁর আত্মজীবনী ‘লাল কার্ডের বাইরে।’
রবিবার অলোক মুখার্জির আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠানে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে ছিল তারকার মেলা। একদিকে যেমন প্রসূন ব্যানার্জি, ভাস্কর গাঙ্গুলি, বিকাশ পাঁজি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, দীপেন্দু বিশ্বাস, বাইচুং ভুটিয়ার মতো প্রাক্তন সতীর্থরা হাজির ছিলেন, তেমনই এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের দুই কর্তা দেবব্রত সরকার ও দেবাশিষ দত্ত। ছাড়াও ছিলেন অলোক মুখার্জির অসংখ্য গুনমুগ্ধ। বইয়ের প্রকাশক দীপ প্রকাশনী, লিখেছেন অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। খেলার ওপরে অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কয়েকটা বই রয়েছে। অলোক মুখার্জির আত্মজীবনী খেলাটা তার মধ্যে অন্যতম।
ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে আত্মজীবনী প্রকাশের ভিড়ে ঠাসা অনুষ্ঠানে এসে আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অলোক মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘এত মানুষের ভালোবাসা এখন দুই মলাটে। আজ মনে হচ্ছে, সত্যিই ফুটবলার হিসেবে হয়তো কিছু করতে পেরেছি।’ প্রয়াত কোচ পিকে ব্যানার্জি অনোক মুখার্জিকে তাঁর একশো বছরের সেরা দলে হিসেবে রেখে গেছেন অলোক মুখার্জিকে। সেকথা তুলে ধরে ভাস্কর গাঙ্গুলি বলেন, ‘অলোক মুখার্জি সামনে থাকা মানে নিশ্চিন্তে গোলে কাটাতে পারতাম।’
দেশের জার্সিতে একসঙ্গে দীর্ঘদিন ঘাম ঝড়ানো সতীর্থ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘অলোক মুখার্জির মতো হার্ড ট্যাকলার জীবনে কখনও দেখিনি। ডিফেন্সে খেলেও একটা লালকার্ড দেখেননি। এর থেকে বোঝা যায় কতটা পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলত।’ দীপেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘পিকে ব্যানার্জির মতো কিংবদন্তি কোচ যাকে একশো বছরের সেরা টিমে রেখে গিয়েছেন, তাঁর আত্মজীবনী সবার কাছে আদর্শ হওয়া উচিত।’ বাইচুং ভুটিয়া বলেন, ‘অলোকদার কোচিংয়ে আমি দেশের হয়ে ফুটবল জীবনের সেরা পাঁচটা বছর কাটিয়েছি। অলোকদা শুধু বড় ফুটবলার নন, ভদ্র মানুষও। তাঁর আত্মজীবনী ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠুক।’
বইয়ের লেখক অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অলোকদার মতো ফুটবলারের আত্মজীবনীতে আমার আতের স্পর্শ রয়েছে, এতেই নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। অনেক অজানা তথ্য বইটিতে লুকিয়ে রয়েছে।’ অনুষ্ঠানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে অলোক মুখার্জির হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁরই লাল–হলুদ জার্সি। মোহনবাগান সবুজ–মেরুন উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানায়।