২০২১–এর পর ২০২৬। বিধানসভা নির্বাচনে আবার সম্মুখ সমরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী? সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আবার তেমন সম্ভাবনা তৈরি হতে চলেছে। সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। দুটি আসন থেকে লড়াই করবেন শুভেন্দু অধিকারী। একটা ভবানীপুর ও অন্যটা তাঁর জেতা আসন নন্দীগ্রাম। ভবানীপুরের বর্তমান বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আবার তিনি ভবানীপুর থেকেই লড়াই করবেন।
রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি৷ প্রথম তালিকায় ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীকে দুটি আসন থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শুভেন্দু ছাড়াও বিজেপির প্রার্থী তালিকায় নাম রয়েছে দিলীপ ঘোষের৷ খড়গপুর (সদর) থেকে আবার তিনি লড়াই করবেন। ২০১৬ সালে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন৷ ২০২১ সালে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছিল অভিনেতা হিরণকে৷ প্রথম তালিকায় তাঁর নাম নেই৷
এছাড়া তালিকায় যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি রয়েছে, সেগুলি হল শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি), অভিষেক সিংহানিয়া (রতুয়া), বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ (চাকদা), অসীমকুমার ঘোষ (হরিণঘাটা), পবন কুমার সিং (ভাটপাড়া), সজল ঘোষ (বরানগর), রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), দীপককুমার হালদার (ডায়মন্ড হারবার), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অশোক দিন্দা (ময়না), বিমান ঘোষ (পুড়শুড়া), শীতল কপাট (ঘাটাল), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), সুব্রত মিত্র (বহরমপুর)।
তবে সকলের চোখ ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসন থেকে তিনবার জিতেছেন। ২০১১ সালে বাংলায় সিপিএম সরকারের পতন ঘটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। নন্দীগ্রাম হল সেই এলাকা, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনেছিল এবং তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি বদলে যায়। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিজেপি তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করে। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মমতা তাঁর পুরনো আসন ছেড়ে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুনঃ ভোটার তালিকার কাজ সম্পূর্ণ না করে ভোটগ্রহন নয়, নির্বাচন পিছনোর আর্জি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ নওশাদ সিদ্দিকী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উল্টো ছবি। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে হেরে যান। নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৫০০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কাঁথি দক্ষিণ আসন থেকে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হন। এরপর ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং একই আসন থেকে জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি তার আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়লাভ করেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পরিবহন মন্ত্রী হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দু’নম্বর নেতা হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হত। ২০২১ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগদানের পর মমতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র শুভেন্দু তাঁর সবচেয়ে কট্টর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন।
ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রে, যা শুভেন্দুর নন্দীগ্রাম আসনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত এলাকাভিত্তিক তথ্য থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। তথ্য অনুসারে, মমতার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তালিকাভুক্ত ২০৬,২৯৫ ভোটারের মধ্যে ৪৪,৭৮৭ জন ভোটার বাদ পড়েছে। সেখানে নন্দীগ্রামে, ২৭৮,২১২ ভোটারের মধ্যে ১০,৫৯৯ জন ভোটার বাদ পড়েছে।